
কামরুল হাসান জুয়েল
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি :
কেউ আলোয় দাঁড়িয়ে ইতিহাস লেখেন, আবার কেউ অন্ধকারের আড়ালে থেকে মানুষের জীবনে আলো জ্বালান—নরসিংদীর মাধবদী থানাধীন আমদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মাহাবুব আলম ঠিক তেমনই এক ব্যতিক্রমী মানুষ।
যিনি রাজনীতির পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে হয়ে উঠেছেন মানবতার এক জীবন্ত প্রতীক, এক নীরব মহাকাব্যের রচয়িতা।
স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি শুধুই একজন নেতা নন—তিনি “মানবতার ফেরিওয়ালা”।
তাঁর হাতে গড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেন দুঃখী মানুষের জন্য আশ্রয়ের ছায়া, আলোর প্রদীপ। নিজের বাবা-মায়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন আছিয়া তৈয়ব জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স (কান্দাপাড়া, খিলপাড়া, পলাশ, নরসিংদী)। এই প্রতিষ্ঠানটি আজ শুধু একটি ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষের আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও শিক্ষার বাতিঘর।
শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় নয়, সাধারণ শিক্ষার প্রসারেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। আছিয়া তৈয়ব মডেল স্কুল (পাকুরিয়া, নরসিংদী) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য খুলে দিয়েছেন জ্ঞানের দুয়ার। এখানে প্রতিটি শিশুর স্বপ্ন যেন তাঁর নিজের স্বপ্ন হয়ে ধরা দেয়।
মসজিদের উন্নয়নেও তাঁর নিবেদিত প্রাণ প্রচেষ্টা চোখে পড়ার মতো। তিনি নির্মাণ করেছেন আছিয়া তৈয়ব অজুখানা কমপ্লেক্স—পাকুরিয়া মধ্যপাড়া জামে মসজিদ ও পাকুরিয়া বাজার জামে মসজিদে। যদিও উন্নয়নের নামে পাকুরিয়া বাজার জামে মসজিদের অজুখানা কমপ্লেক্সটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, তবুও মানুষের হৃদয়ে এটি আজও অম্লান—একজন দানবীরের নীরব ভালোবাসার স্মারক হয়ে।
শিক্ষার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে পাইকারদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে। ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান আর নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম জাগানোর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তাছাড়া ২০০৩ সালে পাকুরিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার দ্বিতল ভবনের সিঁড়ি নির্মাণ করে তিনি শিক্ষার পরিবেশকে করেছেন আরও সুগম ও উন্নত।
শুধু কর্মেই নয়, স্বীকৃতিতেও তিনি উজ্জ্বল। শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে শিক্ষা পদক, সনদপত্র ও পুরস্কার লাভ করেন—যা তাঁর মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগের এক গর্বিত স্বীকৃতি।
কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় লুকিয়ে আছে দুর্দিনের মানবিকতায়। গত ১৭ বছর যখন রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী ছিলেন ঘরছাড়া, নির্যাতিত ও নিঃস্ব, তখন আলহাজ্ব মাহাবুব আলম ছিলেন তাঁদের নির্ভরতার শেষ আশ্রয়। রাতের আঁধারে, নিভৃতে—কোনো প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই তিনি নিজ হাতে বাজার করে পৌঁছে দিয়েছেন অসহায় পরিবারগুলোর দরজায়। ক্ষুধার্ত মুখে হাসি ফোটাতে তিনি ছিলেন এক নিঃশব্দ সৈনিক।
অনেকে নেতৃত্ব দেন মঞ্চে দাঁড়িয়ে, আর কেউ কেউ নেতৃত্ব দেন মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়ে—মাহাবুব আলম সেই দ্বিতীয় শ্রেণির বিরল মানুষদের একজন। তাঁর প্রতিটি কাজ, প্রতিটি দান, প্রতিটি সহানুভূতির স্পর্শ—সবই যেন এক একটি জীবন্ত ইতিহাস।
স্থানীয়দের ভাষায়, “তিনি শুধু একজন নেতা নন, তিনি আমাদের অভিভাবক, আমাদের দুঃসময়ের ছায়া।” তাঁর এই নিরলস মানবসেবা, নীরব দানশীলতা এবং মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা তাঁকে এনে দিয়েছে এক অনন্য মর্যাদা—“দুর্দিনের নেতা” হিসেবে।
শেষ কথা:
এই সমাজে যেখানে স্বার্থ আর প্রচারের ভিড়ে মানবতা অনেক সময় হারিয়ে যায়, সেখানে আলহাজ্ব মাহাবুব আলমের মতো মানুষরা নিভৃতে মনে করিয়ে দেন—মানুষ হওয়াটাই সবচেয়ে বড় পরিচয়। তাঁর এই আলোকিত পথচলা আগামী প্রজন্মের জন্য হয়ে থাকবে এক অনুপ্রেরণার দীপশিখা।