
কামরুল হাসান জুয়েল
নরসিংদী :
গ্রামবাংলার নিভৃত এক শিক্ষাঙ্গন, যেখানে প্রতিদিন স্বপ্ন বোনা হয় সীমাবদ্ধতার ভেতর দাঁড়িয়ে—সেই ভূইয়ম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা আজ যেনো সাফল্যের উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছে। নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় জোড়া সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে নতুন এক ইতিহাস রচনা করেছে।
এই কৃতিত্বের নায়ক দুই মেধাবী শিক্ষার্থী— মো: রেজোয়ান (পিতা: মাছুম বিল্লাহ) এবং মো: আবিদ হাসান (পিতা: আলামিন)। তাদের অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি একটি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, একটি এলাকার স্বপ্ন এবং একটি জাতির সম্ভাবনার প্রতিফলন।
জোড়া বৃত্তির এই খবরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে যেনো উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক থেকে শুরু করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ—সবার চোখেমুখে আনন্দ, গর্ব আর আশার দীপ্তি স্পষ্ট। যেনো এই সাফল্য সবাইকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে।
মাদ্রাসার সুপার সম্পাদক মো: হেলাল উদ্দিন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি; এটি আমাদের দীর্ঘদিনের নিরলস সাধনা, সংগ্রাম ও ত্যাগের ফসল। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আমরা শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আজকের এই জোড়া বৃত্তি প্রমাণ করে—ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে কোনো বাধাই বড় নয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের জন্য নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে। আমরা তাদের নিয়ে গর্বিত, অনুপ্রাণিত।”
তিনি আরও বলেন,
“শিক্ষকদের আন্তরিকতা, অভিভাবকদের আস্থা এবং শিক্ষার্থীদের কঠোর অধ্যবসায়—এই তিনের সম্মিলনেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমরা চাই, এই ধারা অব্যাহত থাকুক এবং আগামীতে আরও বড় পরিসরে আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশের সুনাম বয়ে আনুক।”
এদিকে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সদস্য কামরুল হাসান জুয়েল বলেন,
“আজকের এই জোড়া বৃত্তি শুধু একটি ফলাফল নয়—এটি একটি বার্তা। এই বার্তা হলো, গ্রামাঞ্চলের একটি মাদ্রাসাও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে জাতীয় পর্যায়ে মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, এই অর্জন ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত তৈরি করেছে।”
তিনি আরও দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,
“আমরা প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাবো। এই সাফল্য আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারেও বইছে আনন্দের বন্যা। সন্তানদের এমন সাফল্যে তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। তারা সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন, যেনো তাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে।
স্থানীয় এলাকাবাসীরাও এই সাফল্যে গর্বিত। তাদের মতে, এই অর্জন শুধু একটি মাদ্রাসার নয়—এটি পুরো এলাকার সম্মান ও মর্যাদাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অনেকেই আশা করছেন, এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ভূইয়ম ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার মান, নৈতিকতা ও আদর্শিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তার নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রেখে শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এবারের এই জোড়া বৃত্তি সেই নিরলস প্রচেষ্টারই এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের পথ দেখাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।