
কামরুল হাসান জুয়েল
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি :
গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর স্মৃতির আবেগঘন পরিবেশে পালিত হয়েছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সফল খাদ্যমন্ত্রী মরহুম আবদুল মোমেন খানের সহধর্মিণী, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের রত্নগর্ভ মা, খান ফাউন্ডেশন ও দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন মহিয়সী নারী বেগম খোরশেদা বানুর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকাল ৩টায় নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়ন পাকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল এক মানবিক ও আবেগঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়। আবদুল মোমেন খান মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যময়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এমপি। তিনি তাঁর বক্তব্যে মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বলেন, “আমার মায়ের আদর্শ, মানবিকতা ও ত্যাগের শিক্ষা আজও আমাদের পথ দেখায়।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন এডভোকেট রোখসানা খন্দকার, নির্বাহী পরিচালক, খান ফাউন্ডেশন এবং চেয়ারপার্সন, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসরাত জাহান কেয়া, জেলা প্রশাসক, নরসিংদী; আসমা জাহান সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নরসিংদী সদর; মো: আবদুল্লাহ-আল ফারুক, পুলিশ সুপার, নরসিংদী; ইশতিয়াক আহম্মেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পলাশ; মেফতাহুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি), নরসিংদী সদর; অধ্যাপক ড. অভিনয় চন্দ্র সাহা, ভাইস চ্যান্সেলর, মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি, ঢাকা; এবং প্রবীর কুমার সাহা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ড্রিম হলিডে পার্ক, নরসিংদী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব মাহাবুব আলম, সভাপতি, আমদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি; মো: আয়নাল হক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আমদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি, মো: আহসান উল্লাহ, সভাপতি, আমদিয়া ইউনিয়ন যুবদল; মো: আলম মোল্লা, সভাপতি, ঘোড়াশাল পৌরসভা বিএনপি; এবং আমদিয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
আলোচনা সভায় বক্তারা বেগম খোরশেদা বানুর জীবনাদর্শ, মানবসেবা, শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজকল্যাণে তাঁর অনন্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, “তিনি শুধু একজন গৃহিণী নন, ছিলেন একজন আলোকবর্তিকা—যিনি তাঁর কর্ম ও আদর্শ দিয়ে সমাজকে আলোকিত করে গেছেন।”
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় উপস্থিত সবাই তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শকে ধারণ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল শোক, স্মৃতি আর ভালোবাসার এক অপূর্ব মেলবন্ধন—যেখানে একজন মহীয়সী নারীর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার বার্তা দিয়ে যায়।