
কামরুল হাসান জুয়েল
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকার আটিয়াগাঁও পোড়াবাড়ি গ্রামে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সাইদা কবির দীপার (২৭) রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে শোক, ক্ষোভ আর প্রশ্নে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। যে জীবনে নতুন প্রাণের আগমনের অপেক্ষা ছিল, সেই জীবনই থেমে গেল হঠাৎ—অজানা এক অন্ধকারে। এই মৃত্যু এখন আর শুধুই রহস্য নয়, নিয়েছে আইনি রূপ; পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এটি হত্যা হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, নিহতের মা বাদী হয়ে পলাশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী মো: শাকিল আহম্মেদ এবং তার চাচা মো: সিরাজ মোক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে তারা পলাশ থানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের আগেই (রোজার ঈদের আগে) প্রবাসী শাকিল আহম্মেদের সঙ্গে বিয়ে হয় দীপার। বিয়ের পর নতুন সংসার, নতুন স্বপ্ন আর মাতৃত্বের সম্ভাবনায় ভরপুর ছিল তার দিনগুলো। কিন্তু সেই স্বপ্নগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেল মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে স্বামীর বাড়িতেই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। দীপার পরিবারের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। মরদেহে আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় দাগ দেখে তাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, পরিকল্পিতভাবে দীপাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার মেয়ের সংসার জীবন শুরুই হলো না ঠিকমতো। সে মা হতে যাচ্ছিল। আমার মেয়েকে নির্দয়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
এদিকে মামলার অগ্রগতির মধ্যেই ময়নাতদন্ত শেষে আজ বাদ মাগরিব নিহত দীপার জন্মস্থান নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের ভূইয়ম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। শোকাহত পরিবেশে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এদিকে স্থানীয়দের মাঝেও চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। একটি নিষ্পাপ প্রাণ এবং একটি অনাগত শিশুর এমন নির্মম পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জোর দাবি উঠেছে সর্বত্র।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন পুরো এলাকার মানুষের চোখ একটাই দিকে—ন্যায়বিচার।
একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসছে—দীপার মৃত্যু কি কেবল একটি সংখ্যা হয়ে থাকবে, নাকি সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে মিলবে বিচার?