
কামরুল হাসান জুয়েল
নরসিংদী।
নরসিংদীর আমদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মাহাবুব আলমের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ফেক আইডি থেকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি নরসিংদীর মাধবদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একটি অসাধু ও স্বার্থান্বেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে তার নাম, ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে নিয়মিতভাবে বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এর মাধ্যমে তার দীর্ঘদিনের অর্জিত সামাজিক মর্যাদা ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হঠাৎ করেই বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে মাহাবুব আলমের নামে অসংলগ্ন ও বিতর্কিত বক্তব্য ছড়াতে শুরু করলে বিষয়টি সাধারণ মানুষের নজরে আসে। এতে করে সাধারণ জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই এসব আইডির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন।
এ বিষয়ে আলহাজ্ব মাহাবুব আলম গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—এই ফেক আইডিগুলোর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি সবসময় আইন ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। আমার এই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এমন অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ইতোমধ্যে মাধবদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানাই—দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায়, ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
তিনি অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ফেক আইডির আড়ালে লুকিয়ে থেকে কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। অপপ্রচার বন্ধ না হলে দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মাধবদী থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডিগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানা যায়।
সচেতন মহল মনে করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করে এ ধরনের অপপ্রচার বর্তমান সময়ে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। ফেক আইডির মাধ্যমে ব্যক্তির সম্মানহানি, সামাজিক বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করা একটি গুরুতর অপরাধ। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
এদিকে, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিতে হলে এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।