
কামরুল হাসান জুয়েল
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি:
মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনগুলোর একটি—জ্বালানি তেল। আর সেই তেল নিয়েই যখন তৈরি হয় কৃত্রিম সংকট, তখন ভোগান্তির ভার বইতে হয় সাধারণ মানুষকেই। এমন অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন।
বুধবার (১ এপ্রিল) গভীর রাতে, অন্ধকারের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ মজুদের চিত্র উন্মোচনে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা বাজার ও পাঁচদোনা মোড় এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা ও খালিদ হাসান।
অভিযানে বেরিয়ে আসে লোভ আর অসাধুতার নগ্ন চিত্র। পাঁচদোনা বাজারে হুমায়ুন এন্টারপ্রাইজে গোপনে মজুদ করে রাখা হয়েছিল ২৭০ লিটার অকটেন ও ৭০০ লিটার ডিজেল। মানুষের প্রাপ্য জ্বালানি লুকিয়ে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টার দায়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক হুমায়ুন করিবকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একইভাবে ডাঙ্গা রোডে অবস্থিত আয়াজ এন্টারপ্রাইজেও মিলেছে একই চিত্র। সেখানে অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছিল ১,০০০ লিটার ডিজেল ও ২০০ লিটার অকটেন। এ অপরাধে মালিক কাইয়ুমকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে ভ্রাম্যমান আদালত।
তবে শুধু শাস্তি দিয়েই থেমে থাকেনি প্রশাসন—জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকৃত জ্বালানি তেল খোলা বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। আয়াজ এন্টারপ্রাইজের তেল বিক্রির অর্থ মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও, হুমায়ুন এন্টারপ্রাইজ থেকে জব্দকৃত তেলের বিক্রয়লব্ধ অর্থ জমা হয়েছে সরকারি কোষাগারে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা—মানুষের অধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ বাড়ানোর অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে, এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।