
কামরুল হাসান জুয়েল
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।
নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের চানগাঁও গ্রামে এক রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মো. মুনসুর আলী (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ।
নিহত মুনসুর আলী মূলত আড়াইহাজার উপজেলার বান্টি এলাকার বাসিন্দা। তার শ্বশুরবাড়ি মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামে। প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়ির এলাকায় বসবাস করছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আমদিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চানগাঁওয়ের মধ্য্যারটেক এলাকায় একখণ্ড জমি কিনে সেখানে নিজ বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তার সংসারে রয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক ছেলে সন্তান।
নিহতের স্ত্রী জানান, গতকাল রাত আনুমানিক ১১টার পর থেকে মুনসুর আলীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। সারা রাত পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। এমনকি সকালে আত্মীয়স্বজনদের কাছেও যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি।
পরবর্তীতে স্থানীয় শফিক মিয়ার পুকুরে তার লাশ ভেসে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ভিকটিমের বাড়ির সামনে থেকে পুকুরপাড় পর্যন্ত একটি টেনে নেওয়ার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে, যা পাটক্ষেত পেরিয়ে সরাসরি পুকুর পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে হত্যার সন্দেহ আরও জোরালো করেছে।
এলাকাবাসীর ধারণা, মুনসুর আলীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলের আলামতও সেই সন্দেহকে আরও উসকে দিচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাধবদী থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে, আকস্মিক এই মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো চানগাঁও এলাকা। স্বজনদের আহাজারি, একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা এবং রহস্যে ঘেরা এই মৃত্যু—সব মিলিয়ে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামের পরিবেশ।