
কামরুল হাসান জুয়েল
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।
নরসিংদী সদর উপজেলার পাচঁদোনা থেকে ডাঙ্গা মহাসড়কের দুই পাশে এক সময় চোখ জুড়ানো সবুজ ফসলের মাঠ ছিল। আজ সেই জমিগুলো যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সাইনবোর্ডের ভিড়ে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি দখলের অভিযোগ উঠেছে কয়েকটি আবাসিক প্রকল্পের বিরুদ্ধে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে বাড়ছে উদ্বেগ, শঙ্কা আর ক্ষোভ।
সড়কের দুই পাশে এখন সারি সারি সাইনবোর্ড—কোথাও লেখা “বসতবাড়ি” কিংবা “আঙিনা”। এই সাইনবোর্ডগুলো যেন নিঃশব্দে জানিয়ে দিচ্ছে, কৃষির জমি বদলে যাচ্ছে কংক্রিটের স্বপ্নে। অথচ এই জমিই ছিল বহু কৃষকের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সহজ-সরল গ্রামবাসীদের টার্গেট করে নানা কৌশলে কম দামে জমি হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কখনো ভুল বুঝিয়ে, কখনো প্রলোভন দেখিয়ে, আবার কখনো চাপ প্রয়োগ করে জমি বিক্রয়ে বাধ্য করা হচ্ছে। এর পেছনে অসাধু ব্যবসায়ী, দালাল চক্র এবং কিছু প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।
একজন স্থানীয় কৃষকের কণ্ঠে শোনা যায় হতাশার সুর। তিনি বলেন, “কিছু জমি তারা কিনে নিয়েছে, আবার কিছু জমিতে ভাড়ার ভিত্তিতে সাইনবোর্ড বসিয়েছে। কিন্তু এভাবে যদি জমি একের পর এক চলে যায়, তাহলে একদিন এই সবুজ এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হবে।” তার চোখেমুখে তখন ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট।
কৃষিজমি হারিয়ে অনেক কৃষক আজ দিশেহারা। যে জমি থেকে তাদের সংসার চলতো, সন্তানদের মুখে আহার জুটতো—সেই জমি হারিয়ে তারা পড়ছেন চরম বিপাকে। বাড়ছে বেকারত্ব, ভেঙে পড়ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে কৃষিজমি কমে গেলে শুধু একটি এলাকা নয়, পুরো দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের একটাই দাবি—দ্রুত এবং কার্যকর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ। তারা চান, অবৈধ দখল বন্ধ করে কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। নইলে অদূর ভবিষ্যতে সবুজে ঘেরা এই জনপদ শুধু স্মৃতিতেই রয়ে যাবে।