
জিসিসির সাবেক প্রধান
প্রকৌশলী আকবরকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চেষ্টা, বিতর্ক সৃষ্টি
গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আকবর হোসেন-কে আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে এমন অভিযোগ ঘিরে নগর ভবনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অবসরোত্তর সময়েও তিনি প্রভাব খাটিয়ে পদে থাকার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিটি কর্পোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ চাকরি জীবনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ঠিকাদারি কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলেছিলেন আকবর হোসেন। ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপসহ নানা অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম-এর আশীর্বাদপুষ্ট হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল শাখায় প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে দীর্ঘ চাকরী জীবনে লুটপাটের ছোট-বড় সব খাতেই হাত পড়েছে আকবর হোসেনের। বাদ যায়নি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টাকাও। ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন, নিয়োগ, বদলি বাণিজ্যসহ ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেন সেবাদানকারী এ প্রতিষ্ঠানকে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই সময় এ ছাড়া জাহাঙ্গীর আলমের সেকেন্ড ইন কমান্ড লাদেন মনির, আশরাফুল ইসলাম রানার ও কিছু আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশে টেন্ডার ফাইল নিয়ন্ত্রণ ও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এক কথায় সিটি নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করা জাহাঙ্গীর আলমের খুব আস্থাভাজন ছিলেন আকবর হোসেন।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ: জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও পিআরএল স্থগিত রেখে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান আকবর হোসেন। তবে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগের সরকারের আমলে দেওয়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়।
এরপর চলতি বছরে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় শওকত হোসেন সরকারকে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সিটিকে ‘গ্রিন ও ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
নতুন করে লবিংয়ের অভিযোগে সিটি কর্পোরেশনের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, অবসরোত্তর সময়েও প্রধান প্রকৌশলীর পদ ফিরে পেতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করছেন আকবর হোসেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিসিসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, অবসরের পরও যদি একই ব্যক্তি আবার দায়িত্ব পান, তাহলে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নেতিবাচক বার্তা যাবে। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও আশীর্বাদপুষ্ট কর্মকর্তা আকবর হোসেন জাহাঙ্গীরের বলয়ে তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতেন। তিনি ছিলেন সাবের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিশ^স্ত কর্মকর্তা। দুর্নীতিতেও ছিলেন সিদ্ধহস্ত। জাহাঙ্গীরের আমলে সকল অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত এই আকবর হোসেন কাউকেই পরোয়া করতেন না।
আকবর হোসেনকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান বলেন, আমি অফিসিয়াল কোন চিঠি পায়নি। আমিও লোক মুখে শুনেছি।
এদিকে আকবর হোসেনকে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আকবর হোসেনের মুঠোফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি।