
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকার তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে না পেরে চরিত্রহননের নোংরা পথে নেমেছে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ওমরা পালনরত অবস্থায়ই ষড়যন্ত্র শুরু
শওকত সরকার জানান, পবিত্র ওমরা পালন শেষে দেশে ফেরার পর তিনি জানতে পারেন যে, গত ২৩ অক্টোবর তাকে জড়িয়ে ১০ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ওই প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ মিথ্যা, একপেশে ও বাস্তবতাবিবর্জিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। একজন রাজনীতিবিদের চরিত্রহননের জন্য কেউ এত নিচে নামতে পারে, তা কল্পনাতীত।”
গাড়ি বিক্রির টাকা বিকৃতভাবে প্রচার
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা বলেন, ভিডিওতে আফজাল হোসেন নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে এবং তাকে টাকা দেওয়ার দৃশ্যও দেখানো হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, “ভিডিওর সেই অংশটি সত্য, কিন্তু সেটি কোনো চাঁদাবাজির নয়—গাড়ি বিক্রির টাকা।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই জনৈক আফজাল হোসেন তার ছেলের প্রতিষ্ঠান ‘এস/এস কার সাম্রাজ্য’ থেকে ৪০ লাখ টাকায় একটি নোয়া স্কয়ার গাড়ি ক্রয় করেন। ১০ লাখ টাকার চেক জামানত রেখে গাড়িটি হস্তান্তর করা হয় এবং বাকি টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়ে ধাপে ধাপে পরিশোধের কথা ছিল। শওকত সরকার দাবি করেন, “কিন্তু তিনি যখন কিস্তির টাকা পরিশোধ করছিলেন, তখন গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাঁদাবাজির ভিডিও হিসেবে প্রচার করেন। এটি সম্পূর্ণ বিকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
‘সুবিধাবাদী’ আফজাল হোসেনের পরিচয় বদল
বিএনপি নেতা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত আফজাল হোসেন অতীতে নিজেকে গাজীপুর মহানগর যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। “জুলাই আন্দোলনের পর হঠাৎ ভোল বদলে নিজেকে বিলুপ্ত জিয়া মঞ্চের নেতা পরিচয় দিচ্ছেন,” জানিয়ে শওকত সরকার দাবি করেন যে আফজাল হোসেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকেই সুবিধাবাদী রাজনীতি করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের পর একটি মহল জাতীয়তাবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ন্যারেটিভ তৈরি করতে মাঠে নেমেছে এবং জুলাই আন্দোলনের কারিগর বিএনপি নেতাকর্মীদের টার্গেট করে প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।
মানহানির মামলা দায়ের
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ভিডিও প্রচারের প্রতিবাদে তিনি ইতিমধ্যে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ জনৈক আফজাল হোসেনকে আসামি করে মানহানির মামলা করেছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, “আমি চাই, যদি তার সৎ সাহস থাকে, তবে আদালতে এসে নিজের বক্তব্য প্রমাণ করুন। সত্যের জয় হবেই ইনশাআল্লাহ।”
জমিদার বাড়ি দখলের অভিযোগও ভিত্তিহীন
কাশিমপুর জমিদার বাড়ি দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে শওকত সরকার বলেন, ২০০৫ সালে ওই বাড়ির অর্ধেক অংশ তিনি ক্রয় করেন। ২০১২ সালে তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর অনুসারীরা বারবার হামলা চালালেও তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। ২০২৩ সালে আদালত সরকারপক্ষকে ওই বাড়িতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পরবর্তীতে নতুন রেকর্ডে তিনি বি ডি এস পর্চা পান। তাই দখলের অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা।
জাতীয়তাবাদী আদর্শে অবিচল
নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে শওকত সরকার বলেন, তার বিরুদ্ধে ৪২টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল এবং হয়রানিমূলক মামলায় তিনি বারবার কারাভোগ করেছেন। তিনি বলেন, “জেল-জুলুম, নির্যাতন, ভয়ভীতি—সবকিছু সহ্য করেছি, কিন্তু জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে এক বিন্দুও পিছু হটি নাই।”
তিনি শেষ করেন এই বলে যে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা যখন মাঠে পারে না, তখন কুৎসা রটিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করে। “গাজীপুরবাসী জানে, আমি জনগণের রাজনীতি করি। আমার বিচার আমি জনগণের আদালতে ও আল্লাহর কাছে তুলে দিলাম।”
মো. আজিজুল হক
গাজীপুর মহানগর
২৬-১০-২০২৫ ইং