
১৭ বছরের নির্যাতন, মামলা আর ত্যাগ—নেতাকর্মীদের দাবি, পরীক্ষিত এই নেতার হাতেই থাকুক নেতৃত্ব।
কামরুল হাসান জুয়েল
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।
আমদিয়া ইউনিয়নের রাজনীতিতে এক পরিচিত, সংগ্রামী ও ত্যাগী নাম—আলহাজ্ব মাহাবুব আলম। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যিনি আগলে রেখেছেন দলকে, সেই নেতাকেই আজ আবারও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির আসনে দেখতে চায় তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত দুঃসময়ে যখন অনেকেই ছিলেন নীরব কিংবা আত্মগোপনে, তখন মাহাবুব আলম ছিলেন মাঠের অগ্রভাগে। বারবার রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন, সহ্য করেছেন নির্যাতন—তবুও ভেঙে পড়েননি। বরং প্রতিকূলতাকে শক্তিতে রূপান্তর করে দলের পতাকা উঁচু করে রেখেছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, “দুঃসময়ের সেই কান্ডারীকে সুসময়ে ভুলে যাওয়া অন্যায়। বসন্ত এলে যেমন কোকিলের ডাক শোনা যায়, তেমনি সুসময় এলেই নতুন মুখের ভিড়ে পুরোনো ত্যাগীদের হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।” তারা আরও বলেন, মাহাবুব আলম শুধু একজন নেতা নন, তিনি ত্যাগ, সাহস আর আদর্শের প্রতীক।
তৃণমূলের অনেক কর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, “যে মানুষটি নির্যাতনের পর নির্যাতন সহ্য করেও দল ছাড়েননি, আজ তার মূল্যায়ন না হলে তা হবে চরম অবিচার।” তাদের দাবি, পরীক্ষিত ও জননন্দিত এই নেতার হাতেই আবারও আমদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হোক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, তৃণমূলের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা একটি দলের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি। আর সেই জায়গায় মাহাবুব আলম এখনো অটুট। তার নেতৃত্বে দল আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে বলেও মত দেন তারা।
এ বিষয়ে মাহাবুব আলমের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, “তিনি সবসময় দলের জন্য নিবেদিত। পদ-পদবি নয়, তিনি বিশ্বাস করেন মানুষের ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তবে দল যদি তাকে আবার দায়িত্ব দেয়, তিনি আগের মতোই নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।”
আমদিয়া ইউনিয়নের রাজনীতিতে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—ত্যাগ ও সংগ্রামের এই প্রতীক কি আবারও নেতৃত্বের আসনে ফিরবেন? নাকি বসন্তের কোকিলের মতোই তিনি হারিয়ে যাবেন নতুন সময়ের কোলাহলে?
এখন সবার দৃষ্টি দলীয় সিদ্ধান্তের দিকে। তবে তৃণমূলের স্পষ্ট বার্তা—“আমরা আমাদের পরীক্ষিত নেতাকেই চাই।”