
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি : কামরুল হাসান জুয়েল
আমদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন। পুরনো একটি ঘোষণা নতুন করে সামনে আসায় জনমনে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট সংশয় ও ক্ষোভ।
২৮ নভেম্বর ২০২১ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে আলম নগরে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিএনপির শীর্ষ নেতা ড. আব্দুল মঈন খান–এর উপস্থিতিতে আলহাজ্ব আবু সিদ্দিক জনসম্মুখে ঘোষণা দেন—তিনি ওই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন না এবং ভবিষ্যতেও আমদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। উপস্থিত একাধিক নেতাকর্মীর দাবি, বক্তব্যটি ছিল স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন।
সেই বৈঠকে বর্তমান যুবদল সভাপতি মো: আহসান উল্লাহ দলীয় অনুমতি সাপেক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, যদি ড. আব্দুল মঈন খান অনুমতি দেন, তবে তিনি প্রার্থী হতে প্রস্তুত।
কিন্তু পরবর্তীতে বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। শেষ পর্যন্ত মো: আহসান উল্লাহও প্রার্থী হননি। অর্থাৎ, বিএনপি থেকে তখন কেউই প্রার্থী হওয়ার মতো সাহস দেখাননি—এমন অভিযোগ এখন অনেকের মুখে মুখে। আরও অভিযোগ রয়েছে, সে সময় দলের অনেকেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।
এখন প্রশ্ন আরও তীব্র_
১) তিনি কি অস্বীকার করতে পারবেন যে জনসম্মুখে এমন ঘোষণা দেননি?
২) যদি দিয়ে থাকেন, তবে কেন সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত?
৩) রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বদলানো কি জনআস্থার সঙ্গে প্রতারণা নয়?
৪) নাকি পুরো বিষয়টি ছিল সাময়িক কৌশল?
৫) জনসম্মুখে দেওয়া ঘোষণার পর কেন সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত?
৬) সে সময় দলীয়ভাবে প্রার্থী না দেওয়ার পেছনে প্রকৃত কারণ কী ছিল?
৭) আর যদি সত্যিই অনেকেই ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে থাকেন, তবে তার রাজনৈতিক ও নৈতিক জবাবদিহিতা কোথায়?
সচেতন মহল বলছেন, রাজনীতি সাহসীদের জায়গা। যখন সময় কঠিন ছিল, তখন যদি কেউ সামনে না আসেন, আর এখন পরিস্থিতি অনুকূলে দেখে আবার প্রার্থী হওয়ার আলোচনা ওঠে—তবে জনগণ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলবেন।
আমদিয়া ইউনিয়নবাসী এখন আর অস্পষ্ট ব্যাখ্যা চান না। তারা চান পরিষ্কার, প্রকাশ্য ও নির্ভীক বক্তব্য। অতীতের সিদ্ধান্ত, বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সবকিছুই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
কারণ রাজনীতিতে স্মৃতি দীর্ঘ, আর জনগণের প্রশ্নের জবাব একদিন না একদিন দিতেই হয়।