
কামরুল হাসান জুয়েল
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।
নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদ—একটি নাম, একটি কেন্দ্র, একটি প্রতীক; যেখানে বসে আঁকা হয় উন্নয়নের নকশা, পাশ হয় হাজার কোটি টাকার বাজেট, গড়া হয় স্বপ্নের ভবিষ্যৎ। অথচ সেই স্বপ্নেরই উঠোন আজ সামান্য বৃষ্টিতে পরিণত হয় এক বিষাদময় জলাভূমিতে!
কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি নামলেই যেন উন্মোচিত হয়ে পড়ে বাস্তবতার নগ্ন চিত্র। পরিষদ চত্বরজুড়ে জমে ওঠে ময়লা পানি, ডুবে যায় পথঘাট, থমকে দাঁড়ায় মানুষের চলাচল। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ—যাদের করের টাকায় এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ইট দাঁড়িয়ে—তাদেরই হাঁটতে হয় হাঁটুসমান পানির ভেতর দিয়ে। কারো হাতে জুতা, কারো চোখে ক্ষোভ, কারো মুখে নিঃশব্দ অভিশাপ।
এ যেন উন্নয়নের ব্যানারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক নির্মম উপহাস!
যেখানে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন পায়, সেখানে কি সত্যিই ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য সামান্য কিছু অর্থ বরাদ্দ অসম্ভব? নাকি এই অব্যবস্থাপনার পেছনে লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের উদাসীনতা, দায়িত্বহীনতা আর জবাবদিহিতার অভাব?
স্থানীয়দের ভাষায়, এটি কোনো আকস্মিক দুর্ভোগ নয়—এ এক দীর্ঘদিনের পচন, অবহেলার স্তূপ, যা প্রতিটি বৃষ্টিতে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ড্রেনেজ লাইন অকার্যকর, পানি নিষ্কাশনের পথ অবরুদ্ধ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের নেই কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ। ফলে সামান্য বৃষ্টিই হয়ে ওঠে জনদুর্ভোগের কারণ।
প্রশ্নগুলো তাই আজ আরও তীব্র, আরও উচ্চকণ্ঠ—
এই দায়ভার কার?
কার টেবিলে আটকে আছে সমাধানের ফাইল?
কার অবহেলায় প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ?
উপজেলা প্রশাসন, প্রকৌশল বিভাগ, নাকি জনপ্রতিনিধিরা—কে নেবে এই ব্যর্থতার দায়?
এটি কেবল জলাবদ্ধতার গল্প নয়, এটি দায়িত্বহীনতার প্রতিচ্ছবি। এটি সেই বাস্তবতা, যেখানে উন্নয়নের জোয়ারের গল্প বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে মানুষ ডুবে থাকে স্থবিরতার পানিতে।
সচেতন মহলের জোর দাবি—এখন আর আশ্বাস নয়, প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, এবং সর্বোপরি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
কারণ উন্নয়ন কেবল কাগজে নয়, তার প্রমাণ দিতে হয় মাটিতে—মানুষের চলার পথে, তাদের স্বস্তির নিশ্বাসে।
নইলে হাজার কোটি টাকার হিসাব কেবল সংখ্যার খেলায় সীমাবদ্ধ থাকবে, আর বাস্তবতা ডুবে থাকবে বৃষ্টির নোংরা পানিতে।