
অস্ত্র ও মাদকসহ আটক পাকুরিয়ার কথিত মাদক সম্রাট ফালু, কিন্তু স্বজনদের হস্তক্ষেপে ছাড়—আইনের বাইরে সমাধান নিয়ে ক্ষোভ।
কামরুল হাসান জুয়েল
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।
নরসিংদীর সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়ন পাকুরিয়া গ্রামে যেন বারবার ফিরে আসে একই দৃশ্য, একই আতঙ্ক, একই প্রশ্ন—কিন্তু উত্তর মেলে না। গতকাল গভীর রাতে এলাকাবাসীর হাতে আবারও আটক হলেন কথিত মাদক সম্রাট মো: ফারুক মিয়া (ফালু) (৫০), পিতা: শামসু মিয়া।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত এই ব্যক্তি এলাকাজুড়ে এক অদৃশ্য ভয় ও প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। অবশেষে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককালে তার কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে তখন গ্রামে তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ। জনতার একটাই প্রত্যাশা—এবার হয়তো আইনের হাতে তুলে দেওয়া হবে তাকে, শেষ হবে এই দীর্ঘ ভোগান্তির অধ্যায়।
কিন্তু সেই আশার আলো নিভে যায় হঠাৎ করেই।
অভিযুক্তের মামাতো ভাই মো: পনির মিয়া, মো: মকবুল হোসেন ও মো: কামাল মিয়া ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। নানা প্রতিশ্রুতি ও অনুরোধের মাধ্যমে তারা ফারুক মিয়াকে জনতার হাত থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়—“এটাই শেষ, আর কখনো সে মাদকের সাথে জড়াবে না।”
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই প্রতিশ্রুতির মূল্য কতটুকু?
কারণ ইতিহাস বলছে, ২০১৮ সালেও একই অভিযোগে ফারুক মিয়াকে এলাকাবাসী মাদকসহ আটক করে গ্রাম ছাড়া করেছিল। তখনও দেওয়া হয়েছিল এমনই প্রতিশ্রুতি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে তিনি আবার ফিরে এসে নতুন করে গড়ে তুলেছেন তার প্রভাব, বিস্তার করেছেন আধিপত্য।
এ যেন এক অনন্ত চক্র—অপরাধ, ধরা পড়া, প্রতিশ্রুতি, তারপর আবার ফিরে আসা।
সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, এত বড় একটি ঘটনায় পুলিশ বা প্রশাসনের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি। থানায় একটি ফোন কলও যায়নি। আইনকে পাশ কাটিয়ে এই ধরনের “মীমাংসা” যেন এক অদ্ভুত নীরবতার জন্ম দিয়েছে, যা এখন এলাকাবাসীর মনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে।
এলাকাবাসীর কণ্ঠে ক্ষোভ:
“আমরা কি তাহলে নিজেরাই বিচার করব? আইন কি শুধু কাগজে-কলমে? কতবার সুযোগ দেওয়া হবে একজন মানুষকে, যে বারবার একই অপরাধে জড়ায়?”
সচেতন মহলের প্রশ্ন:
একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি বারবার ধরা পড়ার পরও কেন আইনের আওতায় আসছে না? কারা দিচ্ছে এই সাহস? আর কতদিন এভাবে চলবে?
পাকুরিয়া গ্রামের আকাশে এখন একটাই প্রশ্ন ভাসছে—
“অপরাধ কি ক্ষমার চক্রেই ঘুরপাক খাবে, নাকি একদিন আইনের কঠোরতা সত্যিই প্রতিষ্ঠিত হবে?”