
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি: কামরুল হাসান জুয়েল
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল ৯টা নাগাদ বেলাব থানা-অধীন ইব্রাহীমপুর এলাকার একটি পতিত জমি থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইব্রাহীমপুর টেক থেকে মাহমুদাবাদগামী কাঁচা রাস্তার পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সংবাদ পেয়ে বেলাব থানা পুলিশ, নরসিংদী জেলা পুলিশ এবং পিবিআই নরসিংদী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হলে জানা যায়, তিনি ডিজিস্ট মিজান মিয়া। পরে তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মরদেহের মাথা, চোখ, নাক, কান ও মুখমণ্ডল থেঁতলানো ও বিকৃত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলের পাশে ইট-বালু ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি একটি ভারী কংক্রিটের খণ্ড রক্তমাখা অবস্থায় পাওয়া যায়, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. বিল্লাল মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বেলাব থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১২(২)২৩, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ দণ্ডবিধি অনুযায়ী রুজু করা হয়। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করে।
পরবর্তীতে আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক, পুলিশ সুপার, নরসিংদীর সার্বিক দিকনির্দেশনায় ডিবি ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। এসআই মোবারক হোসেন, এসআই জসিম উদ্দিন এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) তমাল সরকার একটানা অভিযান পরিচালনা করেন।
অবশেষে ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান আসামী মো. রমিজ উদ্দিন (৪৪), পিতা-মৃত দুদু মিয়া, সাং-ইব্রাহিমপুর (সাদি সরকার বাড়ি), থানা-বেলাব, জেলা-নরসিংদীকে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা ৩০ মিনিটে নওগাঁ জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী আদালতে বিজ্ঞ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের কারণ ও অন্যান্য জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।