
গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে ‘ছেলে ধরা’ আতঙ্ক — অল্পের জন্য অপহরণ থেকে রক্ষা পেল নিষ্পাপ স্কুলছাত্র।
নিজেস্ব প্রতিবেদক :
গ্রামের শান্ত আকাশে যেন হঠাৎ করেই নেমে এসেছে অজানা আতঙ্কের কালো ছায়া। মা-বাবার বুক কাঁপছে, শিশুরা আর আগের মতো নিশ্চিন্তে স্কুলে যেতে পারছে না। নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানাধীন আমদিয়া ইউনিয়নের ভূইয়ম গ্রামে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নতুন করে ‘ছেলে ধরা’ আতঙ্ক গ্রাস করেছে পুরো জনপদকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূইয়ম গ্রামের বাসিন্দা মো. সাদিকুর রহমানের আদরের সন্তান, পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র মো. সারোয়ার হোসেন নিহাদ গত রবিবার আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে প্রতিদিনের মতোই বইখাতা হাতে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু কে জানত, সেই স্বাভাবিক পথচলাই হঠাৎ রূপ নেবে এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্নে!
পথিমধ্যে একটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত হঠাৎ করে নিহাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। মুহূর্তের মধ্যেই তারা তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। নিষ্পাপ শিশুটি বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে নিহাদ প্রাণপণে চিৎকার শুরু করে—একটি অসহায় কণ্ঠের সেই আর্তনাদ যেন কাঁপিয়ে তোলে চারপাশ!
নিহাদের সেই হৃদয়বিদারক চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা তড়িঘড়ি করে সিএনজি নিয়ে পালিয়ে যায়, ফেলে রেখে যায় আতঙ্ক আর শঙ্কার গভীর ছাপ।
ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় নেমে এসেছে চরম উদ্বেগ। প্রতিটি অভিভাবকের চোখে এখন ভয়—“আমার সন্তান কি নিরাপদ?” শিশুরা স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে, মায়েরা দরজায় দাঁড়িয়ে বুক ধড়ফড় নিয়ে তাকিয়ে থাকছেন সন্তানের পথের দিকে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের গুজব ও ঘটনাগুলো মানুষের মনে ভীতি ছড়িয়ে দিচ্ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
একজন স্থানীয় অভিভাবক বলেন,
“আমরা আমাদের সন্তানদের নিয়ে এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। এইভাবে যদি দিনে-দুপুরে বাচ্চাদের তুলে নেওয়ার চেষ্টা হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাবো?”
সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিও অত্যন্ত জরুরি। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন দেখলেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিরাপদ শৈশব যেন আজ প্রশ্নের মুখে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুরো ভূইয়ম গ্রাম, খুঁজছে নরসিংদীর প্রতিটি পরিবার।