
নিজস্ব প্রতিবেদক :
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় বাসের হেলপার সুজন মিয়া নিহতের ঘটনার দীর্ঘ আড়াই বছর পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। এ ঘটনায় পালিয়ে যাওয়া কাভার্ড ভ্যানচালক মো. রাশেদকে (২২) গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তারিখ ২৪ জুন, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ; সকাল আনুমানিক ৭:০০ ঘটিকা।
স্থান: জিএমপি সদর থানাধীন রাজেন্দ্রপুর হোটেল এক্স সংলগ্ন ইউটার্ন এলাকা (ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়ক)।
নিহত: মো. সুজন মিয়া (২৫), হেলপার, অনন্যা ক্লাসিক বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৮৮১১)।
ঘটনা: কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী অনন্যা ক্লাসিক বাসটিতে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ট-২০-৫১৩৩) সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের দরজায় দাঁড়ানো হেলপার সুজন মিয়া গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মামলা দায়ের: ঘটনার দিন নিহতের স্ত্রী মোসা. সানজিদা আক্তার মিম বাদী হয়ে জিএমপি সদর থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন।
পিবিআইয়ের তদন্তভার: সদর থানা পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করার পর, গত ৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই গাজীপুর জেলা।
গ্রেফতার: পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তারের তত্ত্বাবধানে এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. জুয়েল হোসেনের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৪ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে সাভারের কলমা এলাকা থেকে ঘাতক চালক মো. রাশেদকে গ্রেফতার করা হয়।
স্বীকারোক্তি: পরদিন ৫ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার, পিপিএম-সেবা জানান, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি চালক ও শ্রমিকসহ সকলের সচেতনতা প্রয়োজন। গ্রেফতারকৃত চালককে বিধি মোতাবেক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।