
তিন মাসে আনাচে-কানাচে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের ঘোষণ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ডেঙ্গু প্রতিরোধ, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার লক্ষ্যে গাজীপুরে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্কাউট, বিএনসিসি সদস্য, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষ অংশ নেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নগরের শ্মশানমন্দির, শ্মশান মোড়, রাজ শ্মশানের পাড় ও চিলাই বিলের পাড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয়ভাবে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে গাজীপুরেও একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হয়।
জাতীয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার দেশব্যাপী এ বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুরের অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। দীর্ঘদিনের জমে থাকা বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি রাজ শ্মশানের পাড় ও চিলাই বিলের পাড়ে বিশেষভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়। একই সঙ্গে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেনগাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল করিম ভূঁইয়া,গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোঃ ইসরাইল হাওলাদার, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আহম্মদ হোসেন ভূঁইয়াসহ জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি গাজীপুরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ কাজে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, শুধু একদিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে স্থায়ীভাবে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদসহ জনসমাগমস্থলগুলোতেও কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
এদিকে, বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে এডিস মশার প্রজননস্থল কমবে, ডেঙ্গুর ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং গাজীপুর আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে উঠবে।
#