
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ৯ বছরের শিশু শিক্ষার্থী অপাশবিক নির্যাতনে শিকার। একটি কুচক্রী মহল অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
অবিলম্বে ধর্ষণকারী হানিফা দেওয়ানকে দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ
এক প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ করেন।
বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর উদ্যোগে বুধবার ২টায় এ বিক্ষোভ র্যালী ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
র্যালীটি জাঙ্গালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ হতে শুরু করে জাঙ্গালিয়া বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় র্যালীটি অত্র স্কুলের মাঠে এসে মিলিত হয়।
পরে অত্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন – সোহাগ মোল্লা,
ফয়সাল মোল্লা, শারফুদ্দিন মোল্লা, শফিক আহমেদ বেপারী, মাস্টার মহসিন মোল্লা, আব্দুল্লাহ মোল্লা প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন – বাংলার আর কোন শিশু যেন নির্যাতনের শিকার হতে না হয়। লম্পটদের কারণে আজ শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করতে পারছে না। ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
তাই অবিলম্বে অভিযুক্ত হানিফা দেওয়ানকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবীও জানান তারা।
পাশাপাশি বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সহ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন শিক্ষার্থীরসহ এলাকাবাসী।
জঘন্যতময় এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জাঙ্গালীয়া মধ্যপাড়া হানিফ দেওয়ানের বাড়িতে।
বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত হানিফা পলাতক রয়েছে।
নির্যাতিত শিশু শিক্ষার্থী অটো চাল আসাব উদ্দিন দেওয়ানের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন বলেন- এ বিষয়ে মামলা হয়েছে, আসামী ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
ভিকটিবের মা জানান -আমি সেলাই (দর্জি) কাজ করি। হানিফ কন্টাক্টরের স্ত্রীর সেলাই করা জামা কাপড় দিয়ে মেয়েকে তার বাড়িতে পাঠাই।
অভিযুক্ত হানিফের বাড়িতে কেউ না থাকায় কৌশল সে আমার মেয়েকে ঘরের ভিতরে
নিয়ে আটকে রাখে। পরে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ভাবে পাশবিক নির্যাতন চালায় সে।
বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য বিভিন্ন হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে ব্যথার যন্ত্রণায় কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী কান্নাকাটি করলে তার হাতে কিছু টাকা দিয়ে দোকান থেকে কিছু কিনে খেতে বলে।
সম্প্রতি কয়েক দিন আগে বোতল দিয়ে
দুধ আনার জন্য মেয়েকে হানিফার বাড়িতে পাঠালে। সে ঠিক আগের কৌশলেই শিশু শিক্ষার্থীকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে পুনরায় অমানবিক নির্যাতন চালায়।
এদিকে দিন দিন মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে মেয়েকে কি হয়েছে বললে চিৎকার করে বলে মা তাদের (হানিফার) বাড়িতে
যাইবা না, তারা খারাপ মানুষ। এ বলে সে চিৎকার করে বলে হানিফ ভাইয়া আমাকে এরকম করেছে। পরে ভিকটিমের পরিবারের লোকজন আহত শিশুকে ৭ মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভর্তি করেন।
স্থানীয়রা জানান,অভিযুক্ত কন্টাক্টর হানিফ দেওয়ান এলাকায় একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। তার বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে এলাকায়
একাধিকবার বিচার হলেও কোন তোয়াক্কা করছে না তিনি। জনমনপ প্রশ্ন কন্টাক্টর হানিফার
খুটির জোর কোথায়? কার ছত্রছায়া সে এ অপকর্ম করছে
######
গাজীপুর
১৫/০৭/২৬