
নিজস্ব প্রতিবেদক :
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে একই সঙ্গে সংস্কার তথা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হবে “গণভোট”। ভোটের বাকি মাত্র এক মাস। সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি গণভোট নিয়ে প্রচার-প্রচারণায় নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর, গাজীপুর জেলা কার্যালয়।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে জনগণকে গণভোট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটে উদ্বুদ্ধ করতে ব্যানার টাঙিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর, গাজীপুর জেলা কার্যালয়।
সেগুলোর মধ্যে একটি ব্যানারে লেখা, ‘গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন দেশের চাবি আপনার হাতে, পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যা’। ভিতরে লাগানো আরেকটি ব্যানারে আরও লেখা আছে, ‘গণভোট ২০২৬: সংসদ নির্বাচন, আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে-তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে। সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন। যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে। ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
‘আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন: ইন্টারনেট সেবা কখনও বন্ধ করা যাবে না) বাড়বে। দ-প্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে। ‘হ্যাঁ’-ভোট দিলে উপরের সবকিছু পাবেন। না ভোট দিলে কিছুই পাবেন না। মনে রাখবেন, পরিবর্তনের চাবি এবার আপনারই হাতে।
গণভোটের প্রচারনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর, গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এমদাদুল ইসলাম মিঠুন জানান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ এই গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গণভোটের ভিডিওচিত্র, কনটেন্ট প্রদর্শন, লিফলেট বিতরণ, পথসভা ও মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনেও ব্যানার ঝোলানো হবে। এছাড়াও গাজীপুরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় গণভোট নিয়ে প্রচারনা চালাতে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া মাদক বিরোধী অভিযানের মধ্য দিয়েও প্রচারণা চালানো হবে।
তিনি আরো জানান, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে তা নির্ধারণ করে দিতেই এবারের গণভোট। গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অস্পষ্টতা দূর করতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারের এই ব্যাপক কর্মসূচি একটি চমৎকার উদ্যোগ। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে গণভোটের সঠিক বার্তা পৌঁছাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।