1. bditwork247@gmail.com : Zahid Hassan : Zahid Hassan
  2. thegazipurnewstoday@gmail.com : the gazipur news today :
ময়লার টেন্ডারে বিলম্ব বাড়ছে ক্ষোভ-হতাশা - The Gazipur News Today
১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ| শীতকাল| বৃহস্পতিবার| দুপুর ১২:০৮|
শিরোনামঃ
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারে তিন দফা দাবি জিএমপি কমিশনারের সঙ্গে ডুয়েট ছাত্রদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ। কালীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলায় মানুষের ঢল পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গাজীপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর ১০ দফা দাবিতে জয়দেবপুর বাজার ব্যবসায়ীদের অবস্থান কর্মসূচী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে কর্মকর্তাদের সাথে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মানিত সচিব জনাব মো: রেজাউল মাকছুদ জাহেদী এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। মতবিনিময় সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে জিসিসির শোক প্রকাশ,সহকারী সচিবের বিদায় সংবর্ধনা পুলিশের প্রতি আইজিপির নির্দেশ নির্বাচনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখতে হবে ময়লার টেন্ডারে বিলম্ব বাড়ছে ক্ষোভ-হতাশা যৌন হয়রানির অভিযোগ: প্রধান শিক্ষক আরিফুল কারাগারে ‎গাজীপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, স্বামী পলাতক ‎

ময়লার টেন্ডারে বিলম্ব বাড়ছে ক্ষোভ-হতাশা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৭ Time View

 

গাজীপুর প্রতিনিধি:
রাজধানী ঢাকার কাছে সবচেয়ে বড় গাজীপুর সিটি করপোরেশন। ৫৭টি ওয়ার্ড নিয়ে ২০১৩ সালে গঠিত ৩২৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই সিটির জনসংখ্যা প্রায় ৫৩ লাখ। ছোট-বড় মিলিয়ে শিল্পকারখানা আছে প্রায় ৬ হাজার। অথচ এত জনসংখ্যা, এত কলকারখানার সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই বললেই চলে। সিটি করপোরেশন গঠনের পর গত ১২ বছরে এই নগরীতে স্থাপিত হয়নি কোনো ডাম্পিং স্টেশন। বাসাবাড়ির বর্জ্যও নিয়মিত ফেলা হচ্ছে খোলা জায়গায়।

স্থানীয় সরকার আইন (সিটি কর্পোরেশন) অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে পাড়া মহল্লার সড়ক মহাসড়ক, বড় বড় ইমারত ও বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ করা। এসব ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার মধ্যদিয়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। এক্ষেত্রে পাড়া মহল্লার বাসা বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।

এসব বর্জ্য ও ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ এবং অপসারণে ঠিকাদার নিয়োগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহ সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নতুন করে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসের ১৫ তারিখ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত দরপত্র বিক্রয় করা হয়েছে ৫৩৮টি। ১৯ জুন জমা দেওয়া হয়েছে ৩৪৮টি। পরবর্তী ৩০ জুন দরপত্র খোলা হয়েছে। প্রথম মূল্যায়ন কমিটি ২৬ আগস্ট, পরবর্তী ১৮ নভেম্বর মূল্যায়ন কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের পরও নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিতে গড়িমসি করছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

এসব দরপত্র আহ্বান করার পর পর সৃষ্টি হয় নানান বিপত্তি। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও ধীরগতিতে পরে আছে টেন্ডার প্রক্রিয়া। একদিকে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের ধীরগতি, অন্যদিকে ক্ষোভে ফুসে উঠছে টেন্ডার আহ্বান করা ঠিকাদাররা।
নগরীর ৪৫ নং ওয়ার্ডের দরপত্র আহ্বানকারী নজরুল ইসলাম জানান, আমি বিষয়ে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছি। সিটি কর্তৃপক্ষ দেই দিচ্ছি বলে তারা নানা ভাবে তালবাহানা করছে। সর্বশেষ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বলেছে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে হবে।
কিন্তু মাস শেষ হতে চলেছে অথচ লাইসেন্স দেওয়ার কোন খবর নেই।
সিটির ৫১ নং ওয়ার্ডের মোস্তাক আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দরপত্র আহ্বানের শর্ত পূরণ করেই দরপত্র দাখিল করেছি। টেন্ডার প্রক্রিয়া বিলম্ব হওয়ায় নাগরিক সেবা বিঘিœত হচ্ছে। ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও কোন খবর নেই। আমরা হতাশ হয়ে গেছি।
৩৫ নং ওয়ার্ডের দরপত্র আহ্বানকারী হাজী মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রধান বর্জ্র কর্মকর্তার কাছে বেশ কয়েকবার গিয়েছি, তিনি তালবাহানা করছেন। আমি একজন ব্যবসায়ী, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করাতে আমি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।
নগরীর গাছা এলাকার বাসিন্দা শামীম সিদ্দীকি বলেন, ৩৩ নং ওয়ার্ড থেকে টেন্ডার আহ্বান করেছি। নিয়ম অনুযায়ি ৯০ দিনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা থাকলেও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ তা মানছে না। আমরা সকলেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। ৪২ নং ওয়ার্ডের শাকিল পারভেজ বলেন, আমরা খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি, সিটি কর্পোরেশন নিয়ম ভঙ্গ করছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন বারবারই প্রশ্নের মুখে পড়ছে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে।
শহীদ নিয়ামত সড়ক এলাকার বাসিন্দা লিয়াকত আলী জানান, দুটি (২৬-২৯) ওয়ার্ড থেকে টেন্ডারের দরপত্র জমা দিয়েছি। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ কেন এমন কালক্ষেপন করছে তা আমার জানা নেই। ক্ষোভ ঝেড়ে নগরীর দক্ষিণ সালনা এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ জানান, শর্তপূরণ করে টেন্ডার ক্রয় করেছি, জমাও দিয়েছি, কিন্তু বর্জ্য কর্মকর্তা গড়িমসি করছে। হয় নিয়ম অনুযায়ি টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হোক, না হয় আমাদের পে-অর্ডারের টাকা ফেরত দেওয়া হোক। একই ভাবে ক্ষোভ ঝাড়লেন ১৪ নং ওয়ার্ড ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা একরামুল হক। তিনি বলেন, নগর ভবনে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার কথা বলেছি। গত ৬ মাস ধরে তারা নানান অজুহাত দেখাচ্ছে। আমরা হতাশ পড়েছি। আরেক দরপত্র আহ্বানকারী কামরুল ইসলাম জানান, বর্জ্র অপসারণ একটি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। সিটি করপোরেশন যাকে ইচ্ছে তাকে দিতে পারে, তবে সঠিক সময়ের মধ্যে দেওয়া উচিত। বর্জ্র কর্মকর্তা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ব্যাংক লোন নিয়ে বর্জ্ররে দরপত্র আহ্বান করেছি, মাসে মাসে ইন্টারেস্ট দিতে হচ্ছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।
টেন্ডার প্রক্রিয়া বিলম্বের বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি সময় পর্যন্ত ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল। আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রম চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান। তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি বা পরবর্তী কোনো আপডেট আমাদের দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি দীর্ঘদিন আটকে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসকের স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025