নিজেস্ব প্রতিবেদক :
গাজীপুরে শিশু ও যুবদের অনলাইন ও অফলাইন যৌন হয়রানি ও শোষণ থেকে সুরক্ষা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে নিরাপদে মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ের প্রধান স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গাজীপুর প্রেস ক্লাবে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আয়োজনে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি ‘স্পিক আপ! এম্পাওয়ারিং সিএসওস টু প্রোটেক্ট চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ুথ ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন বাই ক্যাপিটালাইজিং অন অপারচুনিটিস অ্যান্ড অ্যাড্রেসিং দ্য চ্যালেঞ্জ অব দ্য ডিজিটাল স্পেস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তা এবং টেরে দেস হোমস নেদারল্যান্ডসের কারিগরি সহযোগিতা রয়েছে।
সভায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানার নারী ও শিশু ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল (ওসিসি)-এর প্রোগ্রাম অফিসার নূরতাজ বেগম, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এ.টি.এম. তৌহিদুজ্জামান এবং জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক শিরীন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্থানীয় সিএসও, যুব ও শিশু প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শিশু ও যুবদের সুরক্ষা, অনলাইন যৌন হয়রানি ও শোষণ প্রতিরোধ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল মতপ্রকাশ, নির্যাতনের শিকার শিশু ও নারীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও রেফারেল ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, শিশু ও যুবদের অনলাইন এবং অফলাইন ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সমাজসেবা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সিএসও এবং যুব ও শিশুদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে নির্যাতন বা হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি, মানসিক ও সামাজিক সহায়তার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর রেফারেল ও লিংকেজ তৈরি এবং শিশু ও যুবদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের সমন্বয় সভার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং শিশু ও যুবদের অধিকার, নিরাপত্তা ও ডিজিটাল মাধ্যমে নিরাপদ মতপ্রকাশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।