
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভোগান্তি ও মহাসড়কের যানজটের চিত্র তুলে ধরতে লাইভ সম্প্রচার শেষে পুলিশ বক্সে বসে কাজ করার সময় এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
আহত সাংবাদিক হলেন স্টার নিউজের গাজীপুর প্রতিনিধি হোসাইন আলী বাবু। তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের যানজট ও ঘরমুখো মানুষের চলাচলের চিত্র নিয়ে লাইভ সম্প্রচার শেষ করে পুলিশ বক্সে বসে ল্যাপটপে ভিডিও ফুটেজ সম্পাদনার কাজ করছিলেন হোসাইন আলী বাবু। এ সময় এক অপরিচিত যুবক সেখানে প্রবেশ করে তার পরিচয় জানতে চায়। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই ওই যুবক সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।
সাংবাদিকের চিৎকার শুনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে হামলাকারীকে আটক করা হয় এবং আহত সাংবাদিককে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহত সাংবাদিক হোসাইন আলী বাবু বলেন, লাইভ সম্প্রচার শেষ করে পুলিশ বক্সে বসে কাজ করছিলেন তিনি। প্রথমে ওই যুবকের আচরণ স্বাভাবিক মনে হলেও হঠাৎ করেই তিনি হামলার শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ট্রাফিক পুলিশ সদস্য তাজউদ্দিন বলেন, ‘আমি বক্সের সামনেই দায়িত্ব পালন করছিলাম। হঠাৎ ভেতর থেকে চিৎকার ও শব্দ শুনে দৌড়ে যাই। গিয়ে দেখি এক যুবক সাংবাদিক বাবুকে মারধর করছে। একপর্যায়ে চেয়ার তুলে মাথায় আঘাত করারও চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে আমার শরীরেও আঘাত লাগে।’
স্থানীয়রা জানান, চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রের আনাগোনা রয়েছে। এর আগেও এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের ৭ আগস্ট রাতে একই এলাকায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহীনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
তাদের মতে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত একটি পুলিশ বক্সের ভেতরে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিকরা এ ঘটনাকে শুধু একজন সংবাদকর্মীর ওপর হামলা নয়, বরং তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ পরিবেশনের স্বাধীন পরিবেশের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মহানগরের বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, ‘হামলাকারীর নাম জুয়েল রানা (২৮)। তার বাড়ি নরসিংদীর বেলাব উপজেলায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরের মতো চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’